আপডেট
পরিচালক

আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইদরীস লক্ষীপুরী দা.বা. ( মুহতামিম )

  • যোগদান: মার্চ ০৩, ১৯৬২
  • জন্ম তারিখ: জানুয়ারি ০১, ১৯২৭
  • রক্তের গ্রুপ: A+
  • যোগ্যতা: তাকমীল ফিল হাদীস
  • ফোন নম্বর: N/A
  • ইমেইল:
  • ঠিকানা: গ্রাম: বায়মপুর (লক্ষীপুর), ডাক ও উপজেলা: কানাইঘাট, জেলা: সিলেট, বাংলাদেশ।
  • আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইদরীস লক্ষীপুরী

    শায়খুল হাদিস আল্লামা মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস লক্ষিপুরি হুজুর হাফিজাহুল্লাহ।

    জন্ম. ও বংশ
    নাম : মোহাম্মাদ
    পিতা : মাওলানা ইদ্রিস রাহ.
    জন্ম : লক্ষিপুর গ্রামে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে সম্ভ্রান্ত পরিবারের দীনদার মায়ের কোল আলোকিত করে এ পৃথিবীতে আগমন করেন।
    শিক্ষাজীবন : অল্প বয়সেই তিনি পিতৃহারা হন। মায়ের স্নেহের পরশেই বড় হন। তিনি বায়মপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করে লালারচক মাদরাসায় ভর্তি হন। লালারচক মাদরাসায় শরহে জামি জামাত পর্যন্ত অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সম্পাদন করে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য কানাইঘাট মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে কানাইঘাট দারুল উলুম দারুল হাদিস মাদরাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত সম্পাদন করে ছাত্র জীবনের ইতি টানেন। তৎকালীন জামেয়া দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট-এর মুহতামিম শায়খুল হাদিস শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ.-এর সান্নিধ্য গ্রহণ করেন।
    কর্মজীবন : হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস লক্ষিপুরি হাফিজাহুল্লাহ দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট থেকে তাকমিল ফিল হাদিস শেষ করার পর শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. তার মেধা এবং যোগ্যতার নিরিখে নিজ প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম কানাইঘাটে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি দারুল উলুম থেকেই তার কর্মজীবনের সূচনা করেন। দারুল উলুম কানাইঘাটে ৫ বছর শিক্ষকতা করার পর আর্থিক কারনে প্রিয় মুর্শীদ আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ.-এর অনুমতিক্রমে কোম্পানীগঞ্জ মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদরাসায় সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদরাসা শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. নামে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসা। আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষিপুরী এই মাদরাসায় তিন বছর শিক্ষকতা করেন। ১৯৭০ সালে শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. ইনতিকাল করলে তিনি খাগাইল ত্যাগ করেন। এরপর আবারো যোগদান করেন প্রিয় মুর্শীদের প্রতিষ্ঠিত জামেয়া দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাটে। তিনি দারুল উলুম কানাইঘাট মাদরাসায় দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছরের অধিক সময় থেকে শিক্ষকতা করে আসছেন। তিনি নাহবেমির, হেদায়েতুন নাহু,কাফিয়া, নাফহাতুল আরব, শরহে জামি, মুখতাসার, শরহে আকাইদ, বাইযাওয়ি, আবু দাউদ, মুসলিম, বুখারিসহ অনেক কঠিন কঠিন কিতাবের দরস তাদরিস দিয়ে আসছেন।
    বুখারি শরিফের শায়খ তিনি : শায়খুল হাদিস আল্লামা চটি রাহ.-এর ইহতেমামির সময় থেকে তিনি দারুল উলুম জামেয়ায় বুখারি শরিফের দরস দিয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত তিনি দারুল উলুম প্রাঙ্গনে তিনি বুখারি শরিফের দরস প্রদান করেন। বুখারি শরিফ নেসাব পাওয়ার পিছনেও এক অদ্ভুত ঘঠনা উল্লিখিত রয়েছে। শায়খে চটি রাহ.-এর সময়ে বুখারি শরিফ একাংশ কে পড়াবেন এ নিয়ে তিনি কিছুটা সংশয়ে ছিলেন। স্টাফদের মধ্যে বুখারি পড়ানোর জন্য কয়েকজন আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু শায়খে লক্ষিপুরি আগ্রহীদের তালিকায় ছিলেন না। শায়খে চটি রাহ. সুন্দর সমাধানের জন্য কুরা (লটারী) মারার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি কুরা মারার সময় শায়খে লক্ষিপুরি সিনিয়র শিক্ষক হওয়ার কারণে তার নামটাও নিলেন। তিনবার কুরা মারলেন তিনবারই শায়খে লক্ষিপুরি হাফিজাহুল্লাহ-এর নাম উঠলো। এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বুখারি শরিফ একাংশ পড়াচ্ছেন শায়খে লক্ষিপুরি হুজুর হাফিজাহুল্লাহ।
    ইহতেমামির দায়িত্বগ্রহণ : ২০০৭ সাল। বার্ধক্যজনিত কারনে আল্লামা ফয়যুল বারী মহেষপুরি রাহ. ইহতেমামির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। জামেয়া দারুল উলুম নিয়ে কিছুটা মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। মতানৈক্য থেকে মাদরাসাকে উদ্দার করে ডেলে সাজানোর লক্ষে ইহতেমামির দায়িত্ব সুষ্ঠ ভাবে আঞ্জাম দেয়ার জন্য দেশবাসী মুরব্বিয়ানে কিরাম সর্বসম্মতিক্রমে আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ-এর অত্যন্ত আদরের জামাতা শায়খ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষিপুরি সাহেবকে ২০০৭ সালে জামেয়ার মুহতামিম হিসাবে নিযুক্ত করেন। তাঁর কাছে এ মহান দায়িত্ব চলে আসলেও হুজুর নিজেকে মুহতামিম হিসেবে পরিচয় না দিয়ে মাদরাসার খাদিম হিসেবে পরিচয় দেন। কসর নফসবর আশ্রয় নিয়ে মাদরাসার গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজের শরণাপন্ন হলে সবার মতামতের ভিত্তিতেই ফয়সালা করেন। যাই হোক ২০০৭ ইং হতে এখন পর্যন্ত এ গুরু দায়িত্ব তিনি যথাযথ ভাবে পালন করে যাচ্ছেন।

    তাসাউফ : তিনি শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. হাতে বায়াত গ্রহন করেন। শেষদিকে শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ. তাকে ইজাজত প্রদান করেন।। তিনি ছিলেন শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ.-এর সর্বশেষ খলিফা।

    কিছু অনুভূতি : শায়খ কোমল হৃদয়ের অধিকারী একজন জীবন্ত ওলি । শায়খের পরিচয় দেওয়া আমার আমাদের বোকামোর কাতারে পড়ে। শায়খ প্রতিদিন আলোকিত করে বসে থাকেন মুশাহিদি বাগিচার মাঝে। চেহারার নূরানি ঝলক জামেয়া প্রাঙ্গনকে আলকময় করে রাখে। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ কিছুটা সময় শায়খ লক্ষিপুরির সান্নিধ্যে থাকার আশায় শায়খের দিদারের ইচ্ছায় ছোটে আসে দারুল উলুম জামেয়ায়। শায়খের কাছ থেকে একটু ফু নেবার জন্য প্রতিদিন হাজারো মানুষ বসে থাকে জামেয়ার আঙিনায়। শায়খের কাছে ভিড়তে কোনো রকম ভেগ পেতে হয় না কারো। শায়খের দরওয়াজা সবার জন্য উন্মুক্ত। দেখতে সাদা ধবধবে এক মানুষ শায়খি ও সনদি। বৃদ্ধ বয়সে এসেও শায়খ সিহাহ সিত্তার সর্ব্বোচ্চ কিতাব সহিহ বুখারি শরিফের বরকতময় দরস প্রদান করেন। শায়খের দরসে বসলে অনুধাবন করা যায়, শায়খ কতো বড় মাপের যোগ্যতা সম্পন্ন প্রতিভাবান এক বিরল ব্যক্তিত্ব। শায়খের দরসে বসলে আকাবির আসফলাফের দরস-তাদরিসের কথা মনে পড়ে। শায়খ লোভ লালসাহীন সাদাসিধে এক মহান ব্যক্তি। জামাল এবং জালাল উভয় মিজাজের অধিকারী। মহান আল্লাহ তাঁর ছায়াকে আমাদের উপর দীর্ঘায়ু করুন। আমিন

    মুহতামিম সাহেবের আহ্বান

    মুহতামিম সাহেবের বাণী-
    "জাগো, মানবতার আলোকশিখা জ্বালো!"

    প্রিয় সহানুভূতিশীল দেশবাসী,
    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
    আজ এই অন্ধকার যুগে, যেখানে জ্ঞানের মশাল নিভে যেতে বসেছে, যেখানে মানবতা পথ হারিয়েছে—সেখানে আল্লাম মুশাহিদ বায়মপুরী রহ. এর প্রতিষ্ঠিত আপনাদের দারুল উলূম দারুল হাদীস কানাইঘাট মাদরাসাটি দাঁড়িয়ে আছে এক দুর্গের মতো। এখানে জন্ম প্রতিনিয়ত নিচ্ছে অসংখ্যা আলেমে দ্বীন, মুফতি, মুহাদ্দিস ও হাফিযে কুরআন। কিন্তু হায়! এই ফুলগুলোকে বিকশিত করার মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে।
    আমাদের ছাত্রাবাসে পর্যাপ্ত জায়গা নায় থাকায় নতুন ছাত্রদের ভর্তি নিতে পারছি না। লাইব্রেরির বইগুলো পাতায় পাতায় স্মৃতি বহন করছে, কিন্তু নতুন জ্ঞানের পাতাগুলো যোগ হচ্ছে না। অসহায় গরীব ছাত্রদের জন্য রয়েছে ফ্রী বোর্ডি ব্যবস্থা। বোর্ডিংয়ের হাঁড়িতে ভাত আছে, কিন্তু পুষ্টি নেই। মেধাবী সেই শিশুটি, যে কুরআনের হাফেজ হতে চায়, মুহাদ্দিস হতে চায়, মুফতি হতে চায় তার জামাটা এখনো ছেঁড়া। মনে রাখবেন, "যেখানে দরিদ্রের অশ্রু পড়ে, সেখানেই আল্লাহর রহমতের বারি বর্ষিত হয়।"
    প্রিয় দেশবাসী!
    আমি জানি, আপনাদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সেই বীর, যে বলেছিল—"আমি বাঁচবো, আমাকে বাঁচতে দাও!" আজ আমি সেই আহ্বানই করছি। আপনার একটি হাত বাড়ানোর অপেক্ষায় আছে শত শত স্বপ্ন।
    - আপনার দানের একটি টাকা হতে পারে একটি শিশুর মাসের খোরাকি।
    - আপনার হাদিয়াকৃত একটি কিতাব হতে পারে একটি মেধার আলোকবর্তিকা।
    - আপনার একটি ইট হতে পারে এই মাদরাসার নতুন ভিত্তি।
    প্রিয় দেশবাসী!
    আলহামদু লিল্লাহ, আল্লামা বায়মপুরী রহ. এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত আপনাদের এই দ্বীনি শিক্ষার এই পবিত্র প্রতিষ্ঠান বহু বছর যাবত কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। আল্লাহ তায়ালার উপর তাওয়াক্কুল রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে আদর্শ আলেম তৈরি করার এই মহৎ কার্যক্রমে আমরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
    বর্তমানে মাদরাসার পরিচালন ব্যয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় এবং নির্মাণাধীন ভবনের কাজ যথেষ্ট অর্থ সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে মাদরাসা ভবন নির্মাণ খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে ছাত্ররা খুব কষ্টে রাত্রিযাপন করছে। এই কঠিন সময়ে আপনাদের আন্তরিক সাহায্য ও সহযোগিতা আমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন।
    আপনার একটি সদকা হতে পারে একটি আলেমে দীন তৈরির পাথেয়।
    আপনার একটি দান হতে পারে কেয়ামত পর্যন্ত সাদকায়ে জারিয়া।
    দেশ-বিদেশের সকল দ্বীনদার মুসলমান ভাই ও বোনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক আহ্বান—
    দয়া করে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ান, যাকাত-ফিতরা-সাদকা ও দান দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।
    আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের খেদমতে অংশগ্রহণ করে আখিরাতে উত্তম প্রতিদান অর্জনের তাওফিক দিন—
    আমিন।

    ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
    মুহাম্মাদ বিন ইদরীস লক্ষীপুরী
    মুহতামিম

    হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট