সংক্ষিপ্ত জীবনী
বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আমাদের শায়খে বুখারি হযরত শায়খ আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরি হাফিজাহুল্লাহ।
জন্ম ও বংশ
নাম : মুহাম্মাদ আলিমুদ্দিন
পিতা : মৌলভী ওবায়দুর রহমান
জন্ম : ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জানুয়ারি কানাইঘাট উপজেলাধীন দুর্লভপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ
করেন।
শিক্ষাজীবন : দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। পরবর্তীতে কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর সমাপনী করার পর শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং কানাইঘাট দারুল উলুম দারুল হাদিস মাদরাসায় ভর্তি হন শায়খুল ইসলামের দীর্ঘদিনের সান্নিধ্যে আল্লামা দুর্লভপুরি হয়ে ওঠেন ইলমে ওহির এক মহিরুহু। প্রখর মেধার অধিকারী আল্লামা দুর্লভপুরি জীবনের সকল পরীক্ষায় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করে তার মেধার স্বাক্ষর রাখেন।
কর্মজীবন : তাঁর শিক্ষকতা জীবন মূলত শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। ১৯৭০ সালে দাওরায়ে হাদিস দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময়ে তাঁর যোগ্যতা দেখে শায়খুল ইসলাম রাহ. তাকে কানাইঘাট দারুল উলুম মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দারুল উলুমে পর্যায়ক্রমে আবু দাউদ তিরমিজি ও মুসলিম শরিফের দরস প্রদান করেন। ২০০৫ সালে বুখারি শরিফ দ্বিতীয় খন্ডের দরস শুরু করেন এবং ২০০৭ সালে বুখারি শরিফ প্রথম খন্ড শুরু করেন।
শায়খ : তিনি শায়খুল ইসলাম মাওলানা মুশাহিদ বায়মপুরি রাহ.-এর নিজ হাতে গড়া শাগিরদ। শায়খ সম্পর্কে বলে হয়তো শেষ করা যাবে না। অসাধারণ মেধা, প্রজ্ঞা, বাগ্মিতা, পবিত্র কুরআন-হাদিসে তাঁর ব্যুৎপত্তি এবং কুরআন-হাদিসের অধ্যাপনা ও বিশদ ব্যাখ্যার জন্য আমাদের শায়খ ছাত্রদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি শুধু একজন ব্যক্তি নয় বরং একটি প্রতিষ্টানের নাম। একজন জ্ঞানবৃক্ষ মনীষি। জাতির চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকা একজন মহামানব প্রিয় উস্তাদে মুহতারাম। দেশ-জাতির ঈমান আকিদা রক্ষার্থে দীর্ঘদিন থেকে বয়ানাত লেখালিখি সেমিনারের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃদ্ধ বয়সে এসেও মানুষের ইমান আকিদা নিয়ে সর্বক্ষণ চিন্তিত থাকেন শাইখি ও সনদি। জাতির জন্য তাঁর দরদ, স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও দীনি খেদমতের জন্য তিনি ইমামুল কাওম। তিন বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সর্বজনীন পথনির্দেশক আলোকস্তম্ভ।আমরা তার দীর্ঘ হায়াত কামনা করছি।
নাইবে মুহতামিম ও শাইখুল হাদীসের বাণী
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
হামদ ও সালাতের পর।
আলহামদু লিল্লাহ, আল্লামা বায়মপুরী রহ. এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত আপনাদের এই দ্বীনি শিক্ষার এই পবিত্র প্রতিষ্ঠান বহু বছর যাবত কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। আমরা সে আলো বহনকারী কাফেলা—যাদের শুরু শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.)-এর হাত দিয়ে, আর লক্ষ্য জাতিকে দ্বীনের মশালে জাগিয়ে তোলা।
“জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম দারুল হাদীস কানাইঘাট, সিলেট”—একটি প্রাণন্তিকা দীনি প্রতিষ্ঠান। যা দারুল উলূম দেওবন্দের ভাবধারা বুকে ধারণ করে মক্তব থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত ইসলামের অকাট্য দ্বীনী জ্ঞান দিচ্ছে হাজারো ছাত্রকে। এখানে রয়েছে তাহফীযুল কুরআন, উলূমুল হাদীস, এবং দীনের সূক্ষ্ম অনুধাবনের জন্য ইফতা বিভাগ।
আমাদের চেতনাতে বাজে কুরআনের সুর, হাদীসের বার্তা—আর আমাদের হৃদয়জুড়ে উম্মাহর দুঃখবোধ। কানাইঘাট দারুল উলূম শুধু একটি পাঠশালা নয়, বরং বাতিলের বিরুদ্ধে এক দীপ্তিমান মিনার, যেখান থেকে জন্ম নেয় হকপন্থী আলেমে দ্বীন।
আজ বাতিল ফিরকা নানা রঙের চাদর পরে আমাদের ঈমানী ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। তারা চায়, আমরা আক্বীদাহ হারাই, সুন্নাহ ছেড়ে দিই, দ্বীনের শিরা উপড়ে ফেলি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, দারুল উলূম কানাইঘাট দাঁড়িয়ে আছে সেই ষড়যন্ত্রের রুখে দাঁড়ানোর অটল প্রাচীর হয়ে।
অতএব হে দ্বীনদার মুসলিম সমাজ!
সকল প্রকার সহযোগীতার মাধ্যমে এই দ্বীনি দুর্গকে শক্তিশালী করুন। দ্বীন ও ঈমার রক্ষার জিহাদের এগিয়ে আসুন।
আপনার সাহায্য লাগবে:
- একজন ছাত্রের কিতাব কেনার জন্য,
- একজন তালিবুল ইলমের এক বেলার আহারের জন্য,
- একটি ভবনের এক হাত ইটের জন্য।
وَ مَا تُقَدِّمُوْا لِأَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ
“তোমরা নিজেদের জন্য যা কিছু অগ্রিম পাঠাও (দানে), তা আল্লাহর কাছে পাবে।” (সূরা বাকারা: ১১০)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের খেদমতে অংশগ্রহণ করার তাওফিক দিন।
বান্দা মুহা. আলীমুদ্দীন দুর্লভপুরী।
নাইবে মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস
