সংক্ষিপ্ত জীবনী
মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি হাফিযাহুল্লাহ।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
জন্ম ও বংশ।
তিনি ১৯৬০ সালের অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ সিলেট জেলার কানাইঘাট থানাধীন পৌরসভার দুর্লভপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর নাম মুহা. শামসুদ্দিন পিতা. মুহা. ইউসুফ আলী। মাতার নাম. আয়াজুন নেসা। তিনি তাঁর বাবার দ্বিতীয়
সন্তান।
প্রাথমিক শিক্ষা
তাঁর বাবা এবং মা ছিলেন ধর্মপ্রিয় দীনদার মানুষ। তাঁরা প্রথম থেকেই তাকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করেন। অল্প বয়সে তিনি গ্রামের মসজিদে কুরআন শিক্ষা অর্জন করেন। মসজিদের ইমাম ছিলেন মাওলানা আনিসুল হক সাহেব। তাঁর হাতে তিনি কুরআনের মতন শিখেন। তাঁর পর তিনি দুর্লভপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তী হন। দুর্লভপুর প্রাথমিক বিদ্যায়ল থেকে পঞ্চম শ্রেনী সমাপ্ত করে ইতি টানেন জেনারেল ও প্রাথমিক শিক্ষার।
মাধ্যমিক শিক্ষা ও মাদরাসায় ভর্তী।
দুর্লভপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করে ১৯৭০ সালে যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ, তখন দীনদার পিতা-মাতা তাঁকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসায় ভর্তি করেন। দারুল উলুম কানাইঘাট থেকে তাঁর মাধ্যমিক শিক্ষার সূচনা হয়।
উচ্চ শিক্ষা-
তিনি ১৯৭০ সালে দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসায় সাফেলা দ্বিতীয় বর্ষ থেকে পড়ালেখা শুরু করেন। দিনদিন পড়ালেখার প্রতি নিজেকে মনোনিবেশ করেন। এবং মগ্ন হন ইলমে ওহির তালেবে। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তিনি কিতাবের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। মিযান থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসা থেকে সম্পাদন করেন।ছাত্র জীবনে তিনি ছিলেন সকল উস্তাদদের কাছে খুব স্নেহের। জামাতে ছিলেন প্রথম । কিতাব মুতালাআয় ছিলেন অনন্য এক ব্যক্তিত্ব। রাত কিভাবে যেতো হয়তো তিনি টেরই পেতেন না। ১৯৮১ সালে তিনি দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাষ্টার্স) থেকে প্রথম স্থানে উত্তীর্ণ হয়ে ফারিগ হন।
কর্মজীবন
১৯৮১ সালে তিনি দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট থেকে দাওরায়ে হাদিসে উত্তীর্ণ হলে শায়খে চটি রাহ. তাঁকে দারুল উলুম কানাইঘাটের মুদাররিস হিসেব নিয়োগ দেন। কর্মজীবনের শুরু হয় দারুল উলুম জামেয়া থেকে। বর্তমানে তিনি দারুল উলুম কানাইঘাট মাদরাসার নাইবে শায়খুল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে বুখারি,তিরমিযী, মিশকাত, সিরাজী,হেদায়া কিতাবের দারস প্রদান করছেন।
অন্যান্য দায়িত্ব।
তিনি দীর্ঘ এককাল ছাত্র জমিয়ত কানাইঘাট উপজেলার সভাপতি ছিলেন। এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কানাইঘাট উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১০ সালে গঠিত জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন। বর্তমানে তিনি জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্ব সিলেট আযাদ দীনি আরবি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-এ দীর্ঘদিন থেকে পরিক্ষা সচিবের দাযিত্বে নিয়োজিত আছেন। এছাড়া দারুল উলুম কানাইঘাট-এর আল মুশাহিদ ছাত্র সংসদের সভাপতি, নাদিয়াতুল কুরআন কানাইঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি, মুশাহিদিয়া কিরাত প্রশিক্ষণ বোর্ডের পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক, দুর্লভপুর জামে মসজিদের সাবেক হিসেব রক্ষক বর্তমান খতিবে ছানি, আল-মুশাহিদ ফুযালা পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব, ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটি কানাইঘাট-এর সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
পারবারিক জীবন।
মাওলানা শামসুদ্দিন দুর্লভপুরি ১৯৮২ সালে ১৩৮৯ বাংলা মোতাবেক ১০-ই ফাল্গুন বুধবার দিনে সতেরো পরগনার বিশিষ্ট মুরব্বি, দারুল কানাইঘাটসহ বহু মাদরাসার সভাপতি, বহু মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসমাইল দুর্লভপুরি সাহেবের বড় মেয়ে ফাতেমা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বৈবাহিক জীবনে আট মেয়ে পাঁচ ছেলে তাদের ঐরশে আগমন করে। এক মেয়ে জন্মের কিছুদিন পরে খোদার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যায় এ ধরাধাম ছেড়ে। বর্তমানে এগারো সন্তানের পরিবারে তাঁর বিচরণ।
মহান আল্লাহ আমাদের উপর তাঁর ছায়াকে বাকি রাখুন। আমিন।
শিক্ষাসচিবের বাণী
بسم الله الرحمن الرحيم
আলহামদু লিল্লাহ। মুসলিম উম্মাহর মাঝে ইলমে নববীর আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম দারুল হাদীস কানাইঘাট, সিলেট, বাংলাদেশ —একটি দ্বীনি বিদ্যালয়। যার ভিত্তি স্থাপন করেন আমাদের রাহবার “শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী রহ.”। এই প্রতিষ্ঠান আজও বহন করে চলেছে সেই দীপ্তময় আমানতের ধারাবাহিকতা, যে আমানত সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে যুগে যুগে শ্রেষ্ঠ আলেমগণ উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
জামেয়ার শিক্ষা কাঠামো অত্যন্ত সুসংগঠিত ও পূর্ণাঙ্গ। এখানে রয়েছে:
মক্তব থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত সুপরিকল্পিত তালীমি ধারা,
তাহফীযুল কুরআন বিভাগ,
উলূমুল হাদীস ও ইফতা বিভাগ।
আমরা কেবল বিদ্যার পাঠ দেই না—আমরা গড়ে তুলি তাকওয়া ও আমলের প্রতিচ্ছবি। তাই ছাত্রদের চরিত্র গঠনের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট তারবিয়াতী কার্যক্রম, যেমন: নিয়মিত মাজলিস, তিলাওয়াত, যিকর, কিতাবপাঠ, সুন্নত অনুসরণে অনুশীলন ইত্যাদি।
আমাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—
সম্পূর্ণ ফ্রি লিল্লাহ বোর্ডিং।
ছাত্রদের থাকা-খাওয়া ও জীবনযাপনের যাবতীয় খরচ প্রতিষ্ঠান বহন করে।
কোনো ছাত্রের কাছ থেকে আমরা মাসিক, বেতন, ভর্তি বা বোর্ডিংয়ের বিনিময়ে কোনো অর্থ গ্রহণ করি না।
আমাদের বিশ্বাস, ইলমে দ্বীন টাকা দিয়ে নয়—ভালোবাসা, ত্যাগ ও ইখলাস দিয়ে অর্জিত হয়। তাই ছাত্রদের সবকিছু আমরা ফি-সাবিলিল্লাহ দান করে থাকি, আর এজন্যই প্রয়োজন আপনাদের সাহায্য ও সম্পৃক্ততা।
সম্মানিত দ্বীনদার ভাই ও বোনগণ,
এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট, প্রতিটি থালার খাবার, প্রতিটি ছাত্রের হাতে কিতাব—হয়তো আপনার একটি দানের ফসল।
* এক বেলার আহার দিলে এক হাফেজ আরামে মুখে খাবার তোলে।
* একটি কিতাব দিলে এক তালিবে ইলম জ্ঞানের দরজা খুলে ফেলে।
* একটি বিছানা দিলে একজন ইফতা ও বা দাওরার ছাত্র রাত্রিতে উঠে তাহাজ্জুদের সাজদায় পড়ে।
এই হলো আপনাদের দারুল উলূম কানাইঘাট-এর বাস্তবতা। দ্বীনের খেদমতের জন্য ত্যাগ করা এখানে কেবল প্রয়োজন নয়, বরং সৌভাগ্য।
আমরা আল্লাহর ওয়াস্তায় আহ্বান করছি—আপনি হোন হকের এই মেহনতের শরিক।
একটি দান, একটি কিতাব, একটি বিছানা, একটি বিল্ডিং, একটি কামরা—সত্যের প্রাচীরে আপনার ইট হয়ে থাকুক।
وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ
“তোমরা নিজেদের জন্য যে ভালো কাজ আগাম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।” (সূরা বাকারা: ১১০)
আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমীন।
বান্দা মুহা. শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী
শিক্ষাসচিব
দারুল উলূম কানাইঘাট
